প্রাথমিক অবস্থায় এসব কিছুকে তোমার কাছে মনে হবে উপদেশ কিংবা নেতিবাক্য, কিন্তু ধীরে ধীরে যখন এগুলোর মাত্রা বাড়তে থাকবে তখন তোমার কাছে মনে হতে শুরু করবে, না আসলে যেগুলো হচ্ছে এগুলো টর্চার--~~Hedaet Forum~~


Email: Password: Forgot Password?   Sign up
Are you Ads here? conduct: +8801913 364186

Forum Home >>> Blogs, Variety >>> প্রাথমিক অবস্থায় এসব কিছুকে তোমার কাছে মনে হবে উপদেশ কিংবা নেতিবাক্য, কিন্তু ধীরে ধীরে যখন এগুলোর মাত্রা বাড়তে থাকবে তখন তোমার কাছে মনে হতে শুরু করবে, না আসলে যেগুলো হচ্ছে এগুলো টর্চার--

Tamanna
Modarator Team
Total Post: 7382

From:
Registered: 2011-12-11
 

পৃথিবীর একটা অপ্রিয় সত্যঃ ছেলে হয়ে জন্ম নিলে তোমাকে টাকা রোজগার শিখতেই হবে, নইলে নিজের মা-বাবার কাছেই তুমি একসময় বোঝা মনে হতে শুরু করবে। একটা সময় আসবে যখন তোমার মুখে ভাত জুটবে ঠিকই কিন্তু সেগুলো পেটে যাওয়ার আগে তোমার কানের কাছে অনেক গুলো বেসূরা সাইরেন বাজবে। আর সেই সাইরেনের সূর এতটাই অসহনশীল হবে যে তোমার ভাত গুলো যে পথে ঢুকেছিল সে পথেই ফিরে আসতে চাইবে। আর সেই সাইরেনের সূরে এসে তাল মিলাবে তোমার আশেপাশের কিছু সুশীল গোষ্ঠী, যাদের কাজ হচ্ছে খেয়েদেয়ে নিজেরটা রেখে পরেরটা নিয়ে কানাকানি করা।

.

প্রাথমিক অবস্থায় এসব কিছুকে তোমার কাছে মনে হবে উপদেশ কিংবা নেতিবাক্য, কিন্তু ধীরে ধীরে যখন এগুলোর মাত্রা বাড়তে থাকবে তখন তোমার কাছে মনে হতে শুরু করবে, না আসলে যেগুলো হচ্ছে এগুলো টর্চার, আর হ্যা এগুলো টর্চার নয়তো কি? যখন তোমার মুখে নেওয়া প্রতিটা কামড় ভাতের জন্য একটা করে কথা শুনতে হয় তখন সেটা আর নেতিবাক্য থাকে না, তখন সেটা মানুষিক অত্যাচারে রূপ নেয়। প্রকৃত অর্থে এ পৃথিবীতে কেউই তোমাকে ফ্রি'তে ভরণপোষণের দায়িত্ব নিবে না, এমন কি নিজের বাবা-মাও না। একটা নির্দিষ্ট বয়স সীমা পর্যন্ত তোমার বাবা-মায়ের কাছে তোমার লালনপালন করাটা উন্মুক্ত থাকবে, কিন্তু সেই বয়সটা পেরুলেই 'বাচা নিজের জান নিজে বাঁচা!' সবার ক্ষেত্রে এমনটা নাও হতে পারে বা হয় না, কিন্তু কিছুকিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিদিনের চিত্র এটা।

.

তুমি রাতে লেট করে ঘুমাও... মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্লা ব্লা ব্লা এগুলো তোমার নষ্টের মূল। এগুলো তোমাকে ভবিষ্যতে ভাত দিবে না, সকাল গড়িয়ে দুপুরবেলা ঘুম থেকে উটে সারা জীবন ভাত পাবে না। এই 'ভাত ভাত ভাত' আর 'ভবিষ্যৎ ভবিষ্যৎ ভবিষ্যৎ', কে বুঝাবে তাদের এই দুইটার চিন্তায় পড়েই সারারাত তোমাকে জেগে থাকতে হয়, তোমার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তুমি ঘুমাতে পারো না, মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ তুমি হারিয়ে ফেল, সেই সময়টায় তোমর অদূর ভবিষ্যৎটা তোমার কাছে প্রথমে ঝাপসা দেখায় আর কানের কাছে একটা শব্দ অদৃশ্য আওয়াজ দিতে থাকে 'ভাত ভাত ভাত' কিন্তু রাতের গভীরতার সাথে সাথে তোমার চোখের সামনে তোমার ভবিষ্যৎটাও অন্ধকার আচ্ছন্ন হতে শুরু করে, আর কানের কাছের আওয়াজটা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। অশান্তি আর অস্বস্তি থেকে খানেকটা সময় মুক্তি পেতেই তুমি মোবাইলটা হাতে তুলো কিংবা পিসিটা অন করো, ইংরেজিতে তুমি সেটাকে বল 'মাইন্ড ড্রাইভার্ট' করা। ধীরেধীরে একসময় তোমার মস্তিষ্ক নীরব হয়, কিন্তু প্রকৃতি তখন জাগতে শুরু করে দিয়েছে, তখন তোমার চোখে ঘুম আসে, আর স্বাভাবিক ভাবেই দেরী অনেক দেরী করে ঘুমাতে যাওয়ার ফল হিসাবে তোমার ঘুম শেষ হতে হতেও দিনের অর্থেকটা সময় পেরিয়ে যায়, সূর্যটা হেলে পড়ে। তোমার ঘুম ভাঙার পরও তুমি ইচ্ছাকৃত আরো কিছুটা সময় বিছানায় শুয়ে থাকো, গড়াগড়ি খাও আড় পেতে প্রকৃতির আওয়াজ শুনো, কারণ যতটা সময় বিছানায় আছো নিজের রুমে আছো ততটা সময় তুমি নীরব আছো, রুম থেকে বেরুলেই তোমার কানের কাছে সাইরেন বাজতে শুরু করবে, আর এই ভয়ে তোমার ছয় ঘন্টার ঘুমটা আঠ ঘন্টায় পরিণত হয়ে যায় তুমি বুঝতেই পারো না।

.

এই সাইরেন, ঘুম, ভাত, আর ভবিষ্যৎ শব্দ গুলো আমাদের জেনারেশনে এসে একটা নির্দিষ্ট বয়সকাল থেকে আরেকটা অনির্দিষ্ট কর্মকাল পর্যন্ত এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর কিছু নীরব দর্শকদের জীবনে ঝোঁক হয়ে আটকে থাকে। এগুলো বাহির থেকে শুনতে অনেক বেশি স্বাভাবিক মনে হলেও যাদের অসহায়ত্বের উপর দিয়ে এ জোয়ার প্রবাহিত হয় তাদের কাছে সেগুলো অনেক, অনেক বেশি বিষাদময়...