হযরত মাওলানা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী~~Hedaet Forum~~


Email: Password: Forgot Password?   Sign up
Are you Ads here? conduct: +8801913 364186

Forum Home >>> Biography >>> হযরত মাওলানা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী

Tamanna
Modarator Team
Total Post: 7639

From:
Registered: 2011-12-11
 

মাসিক আলকাউসার
আমার আববাজান
- হযরত মাওলানা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী

নেককার বান্দাদের একটি আলামত হল ইত্তেবায়ে সুন্নাত। ঘরে ও বাইরে উভয় যিন্দেগীতে তাঁরা সুন্নতের পূর্ণ পাবন্দ হয়ে থাকেন। আলহামদুলিল্লাহ আমার আববাজান এমনই একজন মানুষ ছিলেন। আববাজান ছিলেন সুন্নতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিন্দা নমুনা। পাহাড়পুর মাদরাসায় যাওয়ার সুযোগ যাদের হয়েছে তারা দেখেছেন, মাঠের উত্তর পশ্চিম কোণে ছোট্ট একটি কামরা। কামরার দক্ষিণ দেয়াল ঘেঁষে একটি ছোট খাট। খাটের মাথার কাছে দক্ষিণমুখী জানালা। কামরার মধ্যখানে গাম দিয়ে মলাটের কাগজ লাগানো
মুলিবাশের বেড়া। ঘরের ভিতর আবছা আলো। পুরনো স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল। এখানে সেখানে আস্তর খসে পড়েছে। এখানে এই ছোট্ট কামরাটায় থাকতেন আমার আববাজান। জীবনের কয়েকটি যুগ তিনি এই ঘরেই কাটিয়েছেন।

এই ঘর আমার আববাজানের অসংখ্য নির্ঘুম রাতের নিরব সাক্ষী। আমার আববাজান আল্লাহর প্রিয় বান্দা ছিলেন। এ ঘরের শক্ত মেঝে একজন আল্লাহওয়ালার চোখের পানিতে অসংখ্যবার সিক্ত হয়েছে। রাতের শেষ প্রহরে আববা ঘুমিয়ে আছেন- জানি না আসমানের ফেরেস্তারা এমন দৃশ্য কোনোদিন দেখেছে কি না। এখানে উজ্জ্বল আলো ছিল না। শীতল বাতাস ছিল না। কিন্তু আমাদের যখনই আলোর প্রয়োজন হয়েছে আমরা এখানেই ছুটে এসেছি। জীবনের নির্মম বাস্তবতায় যখনই মনটা অস্থির হয়ে উঠেছে সবকিছু বাদ দিয়ে সবকিছু ভুলে গিয়ে এখানেই আশ্রয় খুঁজেছি। আববার সামনে হাটু গেড়ে বসেছি। আববা মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন। পরম প্রশান্তির স্পর্শ। আহা কী ছিল সেই হাতের স্পর্শে। হৃদয়ের গভীরে তখন অনুভূত হত এক অভূতপূর্ব স্বাদ। আববা যেন হাতের স্পর্শে আমাকে দান করতেন হৃদয় থেকে উঠে আসা আলো। যে আলোয় আলোকিত হতাম আমি এবং আমার চারপাশের আরো কতজন।

আজীবন আববা আমাকে আপন সেণহ ছায়ায় আগলে রেখেছেন। আমাকে কখনো চোখের আড়াল হতে দিতেন না। আববা কোথাও গেলে আমাকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। পাহাড়পুর মাদরাসার কাজে আববাকে মাঝেমধ্যে ঢাকা আসতে হত। আমাকেও সঙ্গে নিয়ে আসতেন। আববার সঙ্গে থাকার সুবাদে সেই ছোটকালেই অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যের সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।

আমার মনে পড়ে, একবার আববা আমাকে নিয়ে ঢাকা এলেন। সারাদিন তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করতে হবে। আমাকে নিয়ে এত জায়গায় যাওয়া মুশকিল। আমাকে কোথায় রাখবেন, কার কাছে রাখবেন চিন্তায় পড়ে গেলেন। অবশেষে মনে পড়ল হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরি রাহ. (সদর ছাহেব হুজুর)-এর কথা। আববা আমাকে নিয়ে সদর ছাহেব হুযুরের কাছে এলেন। বললেন, হযরত, আমি মাদরাসার কাজে বিভিন্ন জায়গায় যাব। আমার ছেলেটাকে আপনার কাছে রেখে যেতে চাই। সদর ছাহেব সানন্দে রাজি হলেন এবং একজন খাঁটি আল্লাহওয়ালাকে এত কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য সেই ছোটকালেই আমার অর্জিত হয়ে গেল।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন সদর ছাহেব হুযুরের কামরায় হুযুরের সামনেই বসে থাকলাম। অবুঝ বয়স। সবকিছু স্পষ্ট মনে নেই। যতটুকু মনে পড়ে, হযরতের দরবারে চুপচাপ ভালো মানুষের মত বসে ছিলাম না। কখনো হযরতের কলম ধরি, কখনো খাতা ধরি। সারাদিন হযরতের সামনে বসে বসে এই কাজ করতে থাকলাম। আর সদর ছাহেব হুযুর কী করতে থাকলেন? আমাকে একবারও ধমক দিলেন না। যখনই হযরতের জরুরি কিছু ধরতে যাই হযরত আমার দিকে অন্য কিছু বাড়িয়ে দিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলেন, বাবা, এটা না, এটা নাও। কী অপূর্ব সবর! কী অসাধারণ সেণহ বাৎসল্য!

আমি আমার শৈশবকাল পুরোটাই আববার ছায়া হয়ে ছিলাম। চোখের আড়াল হওয়া আমার জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আববা এভাবেই আমাকে চোখে চোখে রাখতেন আর মাঝেমাঝে বলতেন, আমি যে আমার ছেলের চৌকিদারি করছি, আল্লাহ জানেন, আমার এই চৌকিদারি কাজে লাগে কি না।

শামছুল হক ফরিদপুরী রাহ.-এর দরবারে সেই যে বসে থাকা, এরপর আমার যিন্দেগীর অর্ধশত বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু সেই দৃশ্য আমার চোখে এখনো জ্বলজ্বল করে। আমার এখন মনে হয়, আববা পরিকল্পনা করেই এসেছিলেন, একজন আল্লাহওয়ালার সোহবতে যেন আমি ধন্য হই। আমার কচি হৃদয়ে একজন আল্লাহওয়ালার ছবি অংকিত হয়ে থাকুক। আল্লাহওয়ালাদের সোহবতের তাসীর অসীম। তাদের সামনে কিছুক্ষণ বসে থাকা, কোনো কথা হোক না হোক, এর মধ্যেও সীমাহীন লাভ। আমার এখন মনে হয় আববার মনে হয়ত এই চিন্তাটাই কাজ করেছিল।

আমি দেখেছি আববার বেশির ভাগ কাজ হত শিরোনামবিহীন। বিশেষ করে আমাদের এসলাহ ও তরবিয়তের ক্ষেত্রে আববা এই বিষয়টির খুব রেয়ায়েত করতেন। তোমাকে সদর ছাহেব হুযুরের কাছে নিয়ে যাব, বুযুর্গানে দ্বীনের মজলিসে আসা যাওয়ার অনেক ফায়দা, আমি চাই তুমিও সদর ছাহেব হুযুরের মত একজন হও- এ জাতীয় কোনো শিরোনাম ব্যবহার না করে আববা আমাকে সরাসরি সদর ছাহেব হুযুরের দরবারে নিয়ে এলেন।শিরোনাম অনেক সময় কাজের রূহ ও প্রাণশক্তি নষ্ট করে দেয়।

আববার এই চৌকিদারির আরেকটা ঘটনা আমার মনে পড়ে। আমার বয়স তখন ছয় কি সাত। ধামতি আমাদের নানার বাড়ি।পাহাড়পুর থেকে ধামতি প্রায় পাঁচ ছয় মাইল পথ। মাটির রাস্তা। আববার একটা সাইকেল ছিল। নড়বড়ে। কোনোমতে চলে। এটা নিয়েই আববা চলতেন। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে। একদিন ধামতির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন। সাইকেলের চালক আববা। আরোহী আমি। সাইকেলের সামনের অংশে গামছা পেচিয়েআববা আমাকে বসালেন। পিতা ও পুত্রের সাইকেল যাত্রা চলতে থাকল। অর্ধেক পথ এসেছি এমন সময় বাঁধল বিপত্তি। কট করে একটা শব্দ হল। অর্থাৎ সাইকেল ভেঙে গেল। কিন্তু আববা ভাঙলেন না। মোটেও বিচলিত হলেন না। এতদূর পথ এখনো বাকি। পায়ে হেঁটে যাওয়া দুরূহ ব্যাপার। সাথে ভাঙা সাইকেল। আমি ভেঙে পড়লাম। ভয় পেয়ে গেলাম। আববা আমাকে অভয় দিলেন। কাছেই ছিল বটগাছ। আববা বললেন, বাবা, তুমি এখানটায় বটগাছের ছায়ায় বস। আমি দেখি কী করা যায়।

সফরসঙ্গী হিসেবে আববার কাছে টুকটাক কিছু জিনিস থাকত। আববা ছোট একটা ছুরি বের করলেন। বটগাছের ডাল ভেঙে আনলেন। শক্ত এবং সরু। ছুরি দিয়ে চেঁছে ডালটা সমান করলেন। সাইকেলের ভাঙা বাঁটের দু্ই দিকে ডালের দুই প্রান্ত ঢুকিয়ে শক্ত করে বাঁধলেন। কাজটা করতে আববার কতক্ষণ লাগল? বড়জোর পনের কি বিশ মিনিট। তারপর সেই জোড়া লাগানো সাইকেলে আমাকে বসিয়ে আবার প্যাডেল চাপলেন।

‘আমি আমার ছেলের চৌকিদারি করি’আববার একথা যতবার আমার মনে পড়ে, ভাঙা সাইকেল জোড়া লাগানোর এ ঘটনাও আমার মনে পড়ে যায়। চৌকিদারি শব্দের সাথে সাইকেলের ঘটনার কী একটা যোগসূত্র যেন আছে। সেই প্রচ্ছন্ন যোগসূত্রের সূত্র ধরেই আমি আমার জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়েছি। বটগাছের ডাল দিয়ে আববা দুটি বিচ্ছিন্ন চাকা এক করেছেন এবং আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, মঞ্জিলে মাকসুদের পথে তোমার এই পথচলা যদি কখনো স্থবির হয়ে পড়ে, তুমি নিরাশ হয়ো না। কোনো বটবৃক্ষের ছায়ায় আশ্রয় নাও। বটবৃক্ষের সাহায্য নাও এবং নিজেকে আঁটসাঁট করে বেধে নাও।

এ ঘটনার বহু বছর পর আববা নিজেই আমাকে এক বটবৃক্ষের ছায়ায় নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে আমার জীবনের চাকায় বিপুল শক্তির সঞ্চার হয়েছিল। সেই গতিতে এখনো চলছি। আলহামদুলিল্লাহ, ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। হযরত হাফেজ্জী হুযুর রাহ. ছিলেন আমার জীবনের সেই বটবৃক্ষ। আল্লাহ তাআলা আমার আববাকে এবং আমার হাফেজ্জী হুযুরকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকাম নসীব করুন। আমীন।

পাহাড়পুর। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার অন্তর্গত ছোট্ট একটি গ্রাম। এখানকার গ্রাম্য জীবন বড়ই সাদাসিধা। এখানকার প্রকৃতি অন্যসব গ্রামের মতই নির্মল। এখানকার মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, সকল অনুভূতি অন্য সবার মতই নিষ্কলুষ। এখানেও আছে সবুজের সমারোহ, পাখিদের কলতান, দিবসের কর্মচাঞ্চল্য, রাতের নিস্তব্ধতা। এখানেও আছে জীবন ও মৃত্যুর চিরকালীন অবয়ব। সবকিছু মিলিয়ে পাহাড়পুর বড়ই সাধারণ একটি গ্রাম। তবু এখানকার আলো বাতাসে কোথায় যেন একটা অনন্যতার নিবিড় স্পর্শ ছিল।

মুন্সি আব্দুল জলীল। জলীল মুন্সি নামেই সমধিক পরিচিত। অনেক সাধারণের মধ্যে একজন অসাধারণ। আল্লাহ তাআলার একটি গুণবাচক নাম জলীল। আল্লাহ তাআলার জলীল নামের বিস্ময়কর প্রভাব পড়েছে মুন্সি আব্দুল জলীলের স্বভাবে ও আচরণে। তিনি ছিলেন প্রচন্ড জালালী তবিয়তের। এই আবদুল জলীল মুন্সিরই দ্বিতীয় সন্তান মাওলানা আখতারুজ্জামান- আমার আববাজান।

আববার মুখে শুনেছি এবং আম্মার মুখেও শুনেছি দাদাজানের জীবনের বিস্ময়কর অনেক ঘটনা। পাহাড়পুর ও আশপাশের দশ গ্রামের মানুষ এক নামে তাঁকে চিনত। পরম শ্রদ্ধাভরে তাঁকে স্মরণ করত। অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন।

من رأى منكم منكرا فليغيره بيده

এর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত ছিলেন। দাদাজানের হাতে সবসময় একটা লাঠি থাকত। যেখানেই কোনো অন্যায় দেখতেন লাঠি হাতে প্রতিরোধ করতেন। দূর থেকে তাঁকে দেখলেই মানুষ সতর্ক হয়ে যেত। প্রখর মেধার অধিকারী চৌকান্না ব্যক্তি ছিলেন। একদিকে যেমন তিনি প্রচন্ড রাগী ও প্রতিবাদী ছিলেন অন্যদিকে তার স্বভাব ও রুচিতে অসাধারণ রসবোধও ছিল। এককথায় জালালে ও জামালে মেশানো একজন অনন্য-সাধারণ ও বিস্ময়কর মানুষ ছিলেন আমার দাদাজান- মুন্সি আবদুল জলীল রাহ.।

আববাজান তো প্রাথমিক পড়াশোনা কুমিল্লা বটগ্রাম মাদরাসায় সম্পন্ন করেছেন। এরপর দাদার কাছে অনুমতি চাইলেন হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার। দাদা শর্ত দিলেন, তোমার এখানকার সমস্ত উস্তাযের অনুমতি ও দুআ নিয়ে আস। তাঁরা অনুমতি দিলে তারপর যেতে পারবে। এর আগে নয়। আববা সমস্ত উস্তাযের অনুমতি ও দুআ নিয়ে এসে দাদাকে জানালেন। দাদা প্রশ্ন করলেন, কামিনি মাস্টারের কাছে গিয়েছ? কামিনি মাস্টার ছিলেন পাঁচপুকুরিয়া স্কুলের একজন হিন্দু মাস্টার। কামিনি মাস্টার থেকেও বিদায় অনুমতি নিতে হবে, তার কাছেও অনুমতি চাইতে হবে- একথা আববার কল্পনায়ও আসেনি। সেই ছোট্টকালে কামিনি মাস্টারের কাছে পড়েছিলেন, এখন তার কাছেও অনুমতি আনতে হবে! তাও আবার খালেস দ্বীনি শিক্ষা হাসিল করার জন্য! আববা বিস্ময়ভরা কণ্ঠে উত্তর দিলেন, না। দাদা ধমকে উঠলেন, যাও, কামিনি মাস্টার থেকে অনুমতি ও বিদায় নিয়ে এসো।

আববা গেলেন কামিনি মাস্টার থেকে বিদায় নিতে। পাঁচপুকুরিয়া স্কুলে তিনি তখন পড়াচ্ছিলেন। আববা স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। যাতে ক্লাস শেষ হলেই মাস্টারের সাথে দেখা করতে পারেন। এদিকে কামিনি মাস্টার বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিলেন আর অবাক হচ্ছিলেন, অনেক্ষণ যাবৎ জুববা পাগড়ি পরিহিত এক তরুণকে দরজার কাছে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। কে এই তরুণ?

ক্লাস শেষ করে মাস্টার বের হলেন এবং অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কে তুমি বাবা? কিজন্য এসেছ?
আববা বললেন, আমার নাম আখতারুজ্জামান। মুন্সি আব্দুল জলীল সাহেবের ছেলে। আমি আপনার ছাত্র। ছোট থাকতে আপনার কাছে এই স্কুলেই পড়েছিলাম। আমি এখন পড়াশোনার জন্য চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হতে চাই। আপনার কাছে বিদায় নিতে এসেছি।

কামিনি মাস্টার কিছুক্ষণ অবাক বিস্ময়ে আববার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তার চোখ ঝাপসা হয়ে এল। একসময় তিনি আবেগে কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, কেউ তো আমার কাছে বিদায় নিতে আসে না, তুমি এসেছ! একথা বলে তিনি আববার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং নিজের মত করে অনেক দুআ করে দিলেন।

আববা এমন তারবিয়তই পেয়েছিলেন আমার দাদাজানের কাছ থেকে। কামিনি মাস্টারের কতই তো ছাত্র। কয়জনকে তিনি চেনেন। কয়জনের কথাই বা তাঁর মনে আছে। সেই কবে কত বছর আগে আববা তার কাছে পড়েছেন। এত ছাত্রের ভীড়ে আববাকে তার আলাদা করে চেনার কথা না। এত বছর পর আববার কথা মনে রাখা তো দূরের কথা। এধরনের অবস্থায় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন অনুভব করে না। দ্বিতীয় আরেকটা বিষয় হল, অবচেতনভাবে আরেকটা অনুভূতিও আমাদের মধ্যে কাজ করে। আমি মাদরাসায় পড়ব। দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করব। এখানে আমার স্কুলের স্যারদের কাছ থেকে দুআ ও অনুমতি আনার কী আছে। কিন্তু আমার দাদাজান আববাজানকে হাতেকলমে এই সবক শিখিয়ে দিলেন, তোমার বড় হওয়া, তোমার মানুষের মত মানুষ হওয়ার নেপথ্যে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তারা কিন্তু তোমার শিক্ষক ও উস্তাযগণ। তোমার উস্তাযদের থেকে তুমি যতকিছু শিখেছ এর সবটাই তোমার জীবন বিনির্মাণের একেকটি প্রস্তর। এর সবটাই দামী। সবটাই মহামূল্যবান। এর কোনো একটার প্রতিও যদি তোমার ন্যূনতম অবহেলা বা গুরুত্বহীনতা চলে আসে, তোমার জীবনের স্তম্ভ সেখানেই কিন্তু ধুলিস্যাত হয়ে গেল। এ জীবন্ত বাস্তবতাটা যারা বুঝে না, তাদের জীবনের ভিত হয়ে যায় চরম নড়বড়ে। সময়ের সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় এ ভিত বারবার কেঁপে উঠে। এরপর একসময় তার এ জীবন-প্রাচীর চরমভাবে বিধ্বস্ত হয়। মানুষ তখন পথ হারায়। পথের সন্ধানে হন্যে হয়ে ছুটে ফেরে। কোথাও সে একটুখানি আশ্রয় খুঁজে পায় না। তখন সে অভিযুক্ত করে সময়কে বা কালচক্রকে। অভিযোগ করে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে। কিংবা তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে।

এটা আমার দাদাজানআবদুল জলীল মুন্সি সাহেবের জীবনের কীর্তিময় দিক। তিনি তার সন্তানদের জন্য নিজেকে এক অভাবনীয় নির্মল আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। যাদেরকে আল্লাহ তাআলা কিছু দান করবেন তাদের জন্য বহু গায়েবী ইন্তেযাম করে রাখেন। একে বলে কুদরতের নেগরানী। রাববুল আলামীনের অদৃশ্য তত্ত্বাবধান। আমার আববাজান এমনই তত্ত্বাবধান পেয়েছিলেন।

এ কথা শুধু আববাজানের বেলায়ই প্রযোজ্য এমনটা নয়। বরং আমার দাদাজান তাঁর সমস্ত সন্তানের প্রতি পরম যত্নবান ছিলেন। প্রত্যেক পিতামাতাই
সন্তানের জন্য দুআ করেন। সন্তান আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে এক অমূল্য আমানত। এ আমানত রক্ষায় নিজের চেষ্টা তদবীর যত জরুরি এর চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হল আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ ও কান্নাকাটি।

সন্তানের তালীম-তরবিয়ত, আমল আখলাকসহ সর্বদিকে কামিয়াবির জন্য নিয়মিত আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ ও মুনাজাতের কোনো বিকল্প নেই।

সন্তানের প্রতি যত্নশীল প্রত্যেক মা-বাবাই এ কাজটি করে থাকেন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে। কিন্তু আমার দাদাজান ছিলেন এ ব্যাপারে একজন প্রবাদতুল্য আদর্শ পিতা। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর দুআ, বিশেষ সময়গুলোতে দুআ; এগুলো তো ছিলই, উপরন্তু তিনি শুধু তাঁর সন্তানদের জন্য দুআ সম্বলিত একটি সুদীর্ঘ কবিতাও রচনা করেছিলেন। ফার্সী ভাষায় রচিত সেই কবিতা তিনি চলতে ফিরতে পাঠ করতেন। কবিতার পুরোটাই ছিল শুধুই সন্তানদের জন্য দুআ ও মুনাজাত। প্রত্যেক সন্তানের নাম নিয়ে নিয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে বড়ই আবেগ ও দরদমাখা ভাষায় দুআ। একজন পিতার জন্য তাঁর যিন্দেগীর সবচেয়ে বড় পাওনা, তাঁর দুনিয়া ও আখেরাতের সবচেয়ে দামী সম্পদ ও মূলধন যে তার সন্তান, সন্তানের কামিয়াবিই যে একজন পিতার সবচেয়ে বড় কামিয়াবি, সন্তানের বিপথগামিতার মধ্যেই যে একজন পিতার সবচেয়ে বড় হতাশা ও ব্যর্থতা - আমার দাদাজানের এই কবিতা পংক্তিগুলো রচিত না হলে হয়ত এ মহাসত্যটি আমার সামনে এতটা সমুজ্জ্বল হয়ে উদ্ভাসিত হতো না। দাদাজানের কবিতার কিছু অংশ আমার মনে আছে। পরে কোনো এক অবসরে কবিতাগুলো ইনশাআল্লাহ কোনো একটি লেখায় লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা আছে।

আবদুল জলীল মুন্সির সাহস ও নির্ভীকতা ছিল মানুষের মুখে মুখে। তাঁর এই নামের জালাল তাঁর মধ্যে এমন প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, দূর থেকে তাঁকে দ





 

Tamanna

Modarator Team

Total Post: 7639
From
Registered: 2011-12-11
 

Monthly alakausara My ababajana - Hazrat Maulana Abdul Hai paharapuri Ittebaye Sunnah is a sign of the righteous servants. Yindegite more pursuer, both at home and abroad, they are full of circumcision. Alhamdulillah ababajana so I was a man. Ababajana Sunnah of the Prophet yinda sample. They saw the opportunity to go to madrasas Paharpur, north-west corner of the ground in a small room. Along the south wall of a small room. The head of the bed near the window in the south. Middle gum rooms fitted with the cover paper Mulibasera fence. Shadowy light of the house. Old damp walls. Sheet dropped here and there. I have lived here in this little kamarataya ababajana. The house where he spent a few decades of life. This house is my ababajanera silent witness countless sleepless nights. My beloved servant of God was ababajana. A solid floor of the house has been bestowed on numerous occasions allahaoyalara tears. Achena father asleep on the night of the angels in heaven do not know whether such a scene never seen. The light was not bright. The wind was cold. But we have to light when we're running here. The brutal reality of life, when the mind is troubled with the exception of the forgotten, where it found refuge. Father sat in front of the knees. Boolean father said. Touch absolute serenity. Oh, what was the touch of the hand. The heart would have felt an unprecedented taste. My father gave me the touch of the hand, the light came from the heart. And how many more around me that I would be illuminated. Senaha life in the shadow of his father has shielded me. I would not ever be a sight. With me when my father took over. Ababake would occasionally come to Dhaka to Paharpur Madrasa. Brought with me. With father with a big personality in the vicinity of the chotakalei was my good fortune. I remember once my father came to Dhaka. He will be running in different places throughout the day. It's hard to me so much about the place. Where I remember, remember to whom fell worried. Finally remembered Hazrat Maulana Shamsul Haque pharidapuri rah. (Headquarters Fultoli) speak of. Fultoli huyurera front of me came to my father. He said, Lord, I will go to different places in Madrasa. You want to leave my son. Headquarters Fultoli gladly agreed, and so from a pure allahaoyalake had an opportunity to see that I was chotakalei. Throughout the day, from morning till evening sat in front of the headquarters Fultoli huyurera huyurera room. Age inconsolable. I do not remember everything clearly. As far as I remember, the Prophet was sitting in the court of the silence of good people do not like. Prophet never hold a pen, notebook ever caught. Sit all day in front of the Prophet started to do this. What was the headquarters Fultoli huyura? Not once rebuked me. Whenever I go to catch up with some of the Prophet in his soft voice told me something else stretched out, Dad, it's not, it's not. What a wonderful patience! What an extraordinary senaha batsalya! It's all about my childhood was that my father's shadow. The sight was forbidden for me. Thus, kept an eye on me and my father used to say sometimes, I'm my son Chowkidari, God knows, I do what it takes to Chowkidari. Shamsul Haque Faridpuri raha sitting of the court in the next fifty years have gone by, my yindegira. But the scene in my eyes, still bright. I think, my father came to the plan, one that I am happy to sohabate allahaoyalara. My young heart must be a portrayal of allahaoyalara picture. Taseer sohabatera allahaoyaladera infinite. Sitting in front of them for a while, can not be any talk, however, the boundary between profit. I think that maybe this cintatai father had done. Untitled I saw my father was in the majority. In particular, our father tarabiyatera esalaha and this issue was very reyayeta. I'll bring it to the front Fultoli huyurera, religion, assembly buyurgane much advantage to come, I want you in front Fultoli huyurera hao like a father to me, do not use such a title in the court of the District of Fultoli huyurera elenasironama a lot of time and energy of the Spirit destroys. I remember another incident this Chowkidari father. I was six or seven. Dhamati dhamati about five or six miles from our grandfather baripaharapura. Dirt roads. My father was a bicycle. Shaky. Barely moved. It continued with the father. Patchwork of any sort. One day he went to dhamatira. Cyclist father. I'm ascending. I am seated in the front part of the bicycle peciyeababa towel. Father and son bike ride continued. When I came half way bound constraints. Caught a word. That cycle was broken. But the father is not broke. Was not nervous at all. Yet so far the rest of the way. It is difficult to walk. With a broken bike. I was broke. I got scared. My father gave me courage. Banyan tree was near. My father said, 'Dad, you sit in the shade of banyan tree recently. I see what can be done. As a father was accompanied by the easing of some things. Father took out a small knife. Banyan tree brought down the pulse. Stiff and narrow. Dalatao was scraped with a knife equal. Put the two ends of the two branches broken bicycle teat tightly bound. How did my father do it? Barely fifteen to twenty minutes. The pair hooked up again to put me on a bike pedal clenched. "Every time I remember that my son kariababara Chowkidari, attach the broken bicycle in the fall, I think. There may be a link with the words Chowkidari bike events. Tracing the invisible links that I spent so many years of my life. Banyan tree with branches separated father of two has one wheel, and taught me, Maqsood phase the project was stalled in the way of your journey, if ever, do you, do not despair. And take refuge in the shade of a tree. Take the tree and tie yourself to be tight. Many years after the incident, my father brought me in the shade of a tree. The wheels of my life was breathed into force. The pace is still moving. Alhamdulillah, Alhamdulillah chumma. The haphejji huyura rah. I was the tree of life. Me and my haphejji huyurake Garden of Allah ababake Naseeb phiradausera the lofty abode. Amin. Paharpur. Muradnagar upazila of Comilla district in a small village. The village life is very naive. The village, like to clarify the nature of the other. The man's smile tears, happiness and sorrow, all feeling like everyone else spotless. Here greenery, birds, wood-notes, day-working, peace at night. Here are everlasting life and death shape. Overall Paharpur village is very common. However, where the light wind was like a uniqueness close touch. Munshi Abdul jalila. Jalila known as Munshi. One of many ordinary extraordinary. Allah is the name of an attribute jalila. Munshi Abdul jalilera jalila the name of Allah in nature, and has a wonderful effect on behavior. He was a tremendous tabiyatera Jalali. This is the second son of Maulana Abdul jalila munsirai akhatarujjamana ababajana me. Dadajanera heard my father and mother heard a lot of wonderful things in life. Paharpur and around one in ten people in the village knew him. He would remember the absolute respect. He was protesting against the injustice and untruth. من رأى منكم منكرا فليغيره بيده He was the burning example. Always had a stick in his hand dadajanera. Wherever you looked at the staff to prevent any wrongdoing. People would look at him, watch from a distance. Caukanna was possessed a keen intellect. On the one hand, and the defendant was angry as he banged his disposition, and the extraordinary sense of humor was rucite. Jamal is a unique mix of word-of jalale and wonderful man in my dadajana jalila Munshi Abdul Rah .. I have completed primary education in Comilla Batagram ababajana madrasa. The grandfather asked hatahajari admission madrasa. Condition grandfather gave you the permission of the ustayera bring supplication. They then gave him permission to go. Not before. All ustayera grandfather told my father to come and pray. Asked grandfather, Kamini had to master? Kamini pamcapukuriya school master was a Hindu master. Kamini permission to take away from the master, he would have to ask her father did not imagination. Chottakale Kamini was to the Master, will bring her permission! Even sincere religious education in order to achieve! Bismayabhara's father answered no. Was harshly grandfather, to say goodbye and bring Kamini permission from the Master. Kamini master went to say goodbye to my father. He paracchilena pamcapukuriya school. Father stood on the porch of the school. As soon as class is over so that you can meet the master. Master repeatedly staring at the door, and was surprised at the Kamini, a young man wearing a turban jubaba over a long period standing at the door watching. Who is this young? By the end of the master class went out and was surprised and asked, 'Who are you, Dad? Wherefore art thou? My father said, 'Finally my name. Munshi Abdul jalila's son. I am your student. You have to read the small school. I now want to be admitted to study madrasa in Chittagong hathazari. You've come to say goodbye. Kamini master looked at my father kept a bit surprised. Her eyes went blurry. In time, she wept with emotion and said, no, I did not come to take away, I love you! Then he patted his hands, and his father pray a lot like them. My father was a tarabiyatai from dadajanera. Kamini is the master of the students. How many members he knows. What more do you think about or his. How many years ago when he was the father. Ababake crowd of students do not speak so much indistinguishable. Keep in mind that after all these years my father alone. Naturally such a situation, people do not feel the need to communicate with her. The second is another thing, another feeling unconsciously in our work. I'll madrasa. Religious education will be achieved. Syaradera permission from my school to pray and what to bring. This lesson taught me dadajana ababajanake manually, you were great, your people are behind the contributions of people like you, but most of the teachers and ustayagana. Everything you have learned from your ustayadera all your life to build up a single stone. Expensive of all. All precious. If any one of those moves you, at least negligence or weightlessness, the pillars of your life, but there was dhulisyata. Those who do not understand the reality of the living, their life becomes very shaky foundation. Time and again shake up the foundations of the high winds. Once the wall of his life is ultimately destroyed. When people lose their way. Shoppers rushed back in search of the road. She can not find a little shelter. He accuses time or kalacakrake. Her complaint education. Or institutions. It's my dadajanaabadula jalila Munshi Sahib gloriously aspects of life. For his children, he was able to establish itself as a model to clarify the unthinkable. For those whom Allah will give us some inteyama keeps many unseen. Negarani called power. Lord rababula invisible care. I was ababajana such care. It does not just apply to the ababajanera happens. His utmost care to all children, but I was dadajana. Every parents Pray for the child. Son of a priceless deposit from Allah. The deposit devising plans to try to protect yourself is much more important than the urgent supplication to Allah and weep. Taleem-tarabiyata child, akhalakasaha deeds and prayers of supplication to Allah regular round for success, there is no alternative. Every mother-to child caring father've been doing this very seriously. But I was dadajana the proverbial ideal of a father. After the prayer, pray five times a day regularly, especially during supplication; These are combined, in addition to pray with his children, he wrote a lengthy poem. He would go on to read the poem written in Persian. Poetry was all just pray and pray for the children. The name of each child with great passion and daradamakha in supplication to Allah